মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে

0
ad_592-x-60

প্রথমেই আমার নমস্কার গ্রহণ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি এক ক্ষুদ্র গণমাধ্যম কর্মী। সাদাকে সাদা বলা আমার পেশা ও নেশা। সমাজের অন্যায় কোন কাজ দেখলে চেষ্টা করি দু-কলম ক্তি লিখতে। যেহেতু কলম ছাড়া আমার আর কোন শক্তি নেই তাই এটাই আমার ভরসা। আজ আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে জানানোর জন্য লিখতে বসলাম। আমি জানি আপনি রাষ্ট্রীয় কাজে খুবই ব্যস্ত থাকেন। হয়তো আমার লেখাটি আপনি দেখবেনও না ।যেহেতু সরকারের বেশ কয়েকজন আমলা,মন্ত্রী,এমপি ও প্রশাসনের গুরুত্বব্যক্তি আমার লিংকে যুক্ত আছেন সেহেতু আপনার কাছে আমার লেখার অংশ বিশেষ পৌছাবে এমনটি আমি ধারণা করি।
কোন ধরণের ব্যক্তিগত স্বার্থে আমি লিখি না।সেহেতু আমার বিশ্বাস আমার লেখা কিছুটা হলেও সমাজে প্রভাব পড়বে।আজ আপনাকে আমি এই খোলা চিঠি লিখে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা হিন্দু হলেও আমরা এদেশের নাগরিক। বার বার আমরা আপনার সরকারকে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় এনেছি।আমরা সাহায্য চাই না। আমরা সহঅবস্থান চাই। আমরা বিভেদ ও বিভাজন চাই না। আমি জানি আমার মত একজন স্বপ্নবাজ তরুণের লেখা পড়িবার মত সময় আপনার নেই। তারপরও আমি লিখছি যদি প্রযুক্তির কল্যানে আপনার দরবারে আমার লেখার বিষয়বস্তু পৌঁছায় সেই আশায়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ডিজিটাল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলেছেন এটা সবারই জানা। সামনে হিন্দুদের সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এই পূজাকে কেন্দ্র করে আপনার সরকার যথা-যথভাবে নিরাপত্তা দেওয়া ও প্রকার ভেদে বিভিন্ন মন্দিরে অনুদান দিয়ে আসছেন। এজন্য হিন্দু সম্প্রদায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন শারদীয় দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সব চেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিশুরা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা দূর্গাপূজার ছুটি পেত আটদিন । এবার কোন এক রহস্যজনক কারণে সেই আটদিনের ছুটি কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র তিন দিন। এটা আমার কাছে মনে হয় একটা বিভাজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন আগামী মাসের ৪ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর শারদীয় দূর্গাপূজা। দূর্গাপূজা হিন্দুদের উৎসব হলেও এটা এখন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কোন কারণ ছাড়া আটদিনের ছুটি কমিয়ে কেন তিনদিন করা হলো সেটা একটু তদন্ত করতে অনুরোধ করছি।
মাননীয প্রধানমন্ত্রী,আগামী ৪ অক্টোবর ও ৫ অক্টোবর দূর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ দিন। অথচ এ দুদিন বুয়েট ও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা হবে। এই পরীক্ষায় কয়েক লাখ ছাত্র ছাত্রী পূজার আনন্দ বাদ দিয়ে ঢাকা,চট্টগ্রাম দৌড়াতে দৌড়াতে হয়রান হবে।আমার কাছে মনে হয় আটদিনের ছুটি তিনদিন করাটি উচিৎ হয়নি। যারা এ কাজটি করেছে খোঁজ নিয়ে দেখুন তাদের কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এটা করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
পূজার সময় কেন বুয়েট ও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে? আমার কাছে মনে হয় এটা আপনার সরকারকে বিব্রত করার জন্য কেউ কেউ গুটি নাড়ছে।এবিষয়ে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।কারণ পরীক্ষা এক সপ্তাহ আগে পড়ে করলে এটা কোন সমস্যা ছিল না।অথচ হিন্দুদের সব থেকে বড় উৎসবের দিন কেন এই পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে? আমার ধারণা এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে হিন্দুদের অবমূল্যায়ন করার জন্য।
আরেকটি বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে জানাতে চাই , দূর্গাপূজার অষ্টমী পূজার দিন জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শূণ্য হওয়া আসনে রংপুরে উপনির্বাচন দেওয়ার তফসিল ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন । এটা কেমন করে নির্বাচন কমিশন করলো এটা আমার মাথায় কাজ করছে না। আমার ধারণা এটাও একটা গভীর ষড়যন্ত্র। এবিষয়টি অব্যশই প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করি যারা এই কাজটি করেছে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হিন্দুদের সব থেকে বড় উৎসবখ্যাত শারদীয় দূর্গাপূজার দিন কেন রংপুরের নির্বাচনের তারিখ দিতে হলো এ বিষয়টি নিয়ে আপনার হস্তক্ষেপ চাই। কারণ যারা দূর্গাপূজার সময় রাষ্ট্রীয় সাবজনীন বিষয়ে বির্তক সৃস্টি করতে চায় তাদের সনাক্ত করা এখনই দরকার। এটা কোন মতেই কাম্য নয়। সবারই ধর্ম বিশ্বাস আছে।হিন্দুরা যখন পূজা অর্চনায় ব্যস্ত থাকবে সেই সময়ে পরীক্ষা অনুষ্টিত হওয়া মানে পূজার আনন্দটা মাটি করে দেওয়া । আমি মনে করি এবিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যারা ইচ্ছেকৃত ভাবে এ কাজটি করেছে তাদের শাস্তির দাবি করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়।হিন্দু- মুসলিম একত্রিত হয়ে এদেশে বসবাস করে আসছে কালের পর কাল।পরিতাপের বিষয় হলো যারা দূর্গাপূজার দিন গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ও বুয়েটের তারিখ ঘোষনা করে, যারা দূর্গা পূজার দিন উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করে তারা কোন মতেই আপনার সরকারের ভালোটা চায় না। কারণ একটি উপনির্বাচন মানেই হলো লাখ লাখ ভোটারের উপস্থিতি । হাজার হাজার আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি। মিছিলে মিছিলে উত্তাল থাকে সেই এলাকা। এই এলাকার ভোটারের মধ্যে তো হিন্দু নর-নারী আছে। আমরা সবাই জানি রংপুরে হিন্দু বেশী। পূজার সময় নির্বাচন দিলে ২দিন আগে থেকে সেখানে অন্য কেউ পূজা দেখতে যেতে পারবে না, আর স্থানীয়রাও নির্বাচনের কারণে পূজা অর্চ্চনা করতে পারবে না । সেহেতু দূর্গা পূজার সময় নির্বাচন দেওয়ার হেতু কি আমি জানি না।
মেডিকেল ও বুয়েটে হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্তানরাও পরীক্ষা দেয়।ভালো ফলাফল করে।অতীতে এমন রেকর্ড অহরহ আছে। তাহলে সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আয়োজন ইচ্ছাকৃত গোলযোগ সৃস্টির কারণ নয় কি? যারা এগুলো নির্ধারণ করেন তারা কি বর্ষপঞ্জি দেখে পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করেন না? আমি বিশ্বাস করি সবার আগে মানুষ। প্রতিটি মানুষেরই যার যার ধর্ম বিশ্বাস আছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে প্রতিটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে ,শান্তিতে ধর্ম-কর্ম পালন করবে এটাই স্বাভাবিক।আমি মনে করি বিষয়গুলি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় একটু বিবেচনায় নিয়ে বির্তকগুলো সমাধান করা উচিত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হয়তো জানেন শারদীয় দূর্গাপূজা চারদিন থাকে। সেই সময় সবাই যার যার মত করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মত আনন্দ উৎসব করে। অনেকটা ঈদের মত করে সবাই সবার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ভাবে শারদীয় দূর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকে একদিন। এটা খুবই বেদনার। এরফলে হিন্দুরা আনন্দ উৎসব করতে গ্রামের বাড়ি কিংবা অন্যত্র যেতে পারে না। এবিষয়টি বিবেচনায় আনা জরুরী। আমি মনে করি আপনিই পারবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিভাজন থেকে হিন্দুসম্প্রদায়কে মুক্ত করতে। আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। আপনি আমাদের আশ্রয়স্থল। যেকোন বিপদের সময়ও হিন্দুরা বঙ্গবন্ধু ও আপনাকে ছেড়ে যায়নি। কঠিন বিপদের সময়ও হিন্দুরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের পতাকাতলে ছিল ও থাকবে। তাহলে আমাদের সঙ্গে এই বিভাজন কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? দযা করে একটু সুদৃস্টি দিবেন এই আশা করতেই পারি।
পরিশেষে আপনার মঙ্গলকামনা করি।
অভিজিত বনিক
গণমাধ্যমকর্মী।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.