কমলাপুরে স্বর্ণব্যবসায়ীর ১৩০ ভরি স্বর্ণ লুট! ডিএমপির সাড়াশি অভিযানে ৪ আসামি গ্রেফতার

0
ad_592-x-60

নিজস্ব প্রতিবেদক
কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ১৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ মোঃ মোছলেম (৩৫); আছীব চৌধুরী ওরফে ফিরোজ ( ৫৪); মোঃ জাফর ইকবাল (৫৫) এবং মোঃ মাসুম হাসান (৩২)।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবি (সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ নাজমুল হক জানান, গত ১৯/০৩/২০২০ তারিখ প্রীতম বণিক ও সুমন চৌধুরী নামে দুজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী রাজধানীর তাতি বাজার থেকে ১৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবার উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না আসায় তারা রেল স্টেশনের ভেতরে একটি ফাস্টফুডের দোকানে অপেক্ষা করতে থাকে। আনুমানিক বেলা সাড়ে তিনটায় তিন-চারজন দুষ্কৃতিকারী দোকানে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাদের নিকট একটি ব্যাগে থাকা ১৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় ইমন ওরফে লাক মিয়া (২৮) নামে এক দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে। অন্যান্য আসামিরা লুণ্ঠিত সকল মালামাল ও টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডিসি ডিবি (সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) বিভাগকে বিষয়টি অবগত করেন এবং আসামী গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে সহযোগিতা চান।

ডিবি (সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি দল টানা তিনদিন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেফতার করে। আর তাদের হেফাজত হতে ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা এবং ১টি ছিন্তাইকৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ঘটনার তদন্তে জানা যায়, এটি ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। তারা মূলত তিনটি দলে বিভক্ত। প্রথম দল তাঁতি বাজার থেকে কে কখন স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় করে কোথায় যাবে এর তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দলের কাছে তথ্য সরবরাহ করে। তথ্য প্রাপ্তির পর দ্বিতীয় দল কারা টার্গেটের কাছ থেকে মাল ছিনিয়ে নিবে তা ঠিক করে। এভাবে তিন দলের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে তারা এ ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করে থাকে এবং ডাকাতির পর তারা সবাই একত্রিত হয়ে হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল সমাহারে বন্টন করে নিয়ে যায়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.